দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৬৫ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরিচালিত এই বিধ্বংসী হামলায় পুরো স্কুল ভবনটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘বৃহত্তর সামরিক অভিযান’-এর অংশ হিসেবে মিনাব শহরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। স্কুল চলাকালীন আকস্মিক বোমাবর্ষণে মুহূর্তের মধ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মৃত্যু ঘটে। ইরানে চলমান এই অভিযানে এটিই এখন পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের ওপর হওয়া সবচেয়ে বড় এবং মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নৃশংস হামলার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুদের দাফনের জন্য সারি সারি গণকবর খনন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গণকবরের দৃশ্যগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
একই সময়ে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর তেহরানের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা থেকে অগ্নিশিখা উঠতে দেখা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানে এই ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ইরানের সাধারণ জনগণকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে চলে আসা বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম অস্থিরতা ও ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
