বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার রাত ১০টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে, সে লক্ষ্যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। বিষয়টি এখন জাতীয় সংসদের এখতিয়ারভুক্ত। আগামী ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন বসবে, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, সংসদের বিষয় আদালতে নিয়ে গিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা সঠিক নয়; সংসদীয় বিষয়ে সংসদ সদস্যদেরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, সংসদীয় বিষয় আদালতে নেওয়ার কারণে আগে সংকট ঘনীভূত হয়েছে এবং জাতীয় বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আদালতকে ব্যবহার করেই তা করা হয়েছিল, যার ফলে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।
জুবায়ের বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। যেহেতু এটি গণভোটে পাস হয়েছে, তাই দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেন তারা।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, এ বিষয়ে দুটি রিট পিটিশনের শুনানি হয়েছে। একটিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ ও সাংবিধানিক সংস্কার সভা গঠনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং রুল জারি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। অন্য রিটে গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট ধারা ও উক্ত বাস্তবায়ন আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণভোটের প্রশ্ন ইতোমধ্যে জনগণের মতামতের মাধ্যমে ফলাফলে পরিণত হয়েছে। এখন প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করার অর্থ আসলে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা। একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ না করে শুধু গণভোটকে চ্যালেঞ্জ করায় তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন।
শিশির মনির আরও বলেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হতে মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতে হঠাৎ রিট দায়েরের পেছনে উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তার দাবি, বিষয়টিকে ‘সাব জুডিস’ করে সংসদীয় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি ‘ডকট্রিন অব পলিটিক্যাল কোয়েশ্চন’-এর উল্লেখ করে বলেন, উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক প্রশ্ন আদালতের বিবেচনার বাইরে থাকা উচিত।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো অবৈধ হয়, তবে সেই সময় নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের বৈধতা কীভাবে নির্ধারিত হবে? তার মতে, বিপ্লব-পরবর্তী চার্টারকে অকার্যকর করার প্রচেষ্টা রাজনৈতিক ও আইনি ভুল হবে।







