চলমান সামরিক অভিযানের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা বর্তমানে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন নতুন এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ এখনই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। পেন্টাগন এ সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ না করায় একক অস্ত্রের খরচ কিংবা নৌ-অপারেশনের ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে কেবল একটি সম্ভাব্য ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার পেবল জানান, এখানে অনেকগুলো পরিবর্তনশীল বিষয় কাজ করছে। পেন্টাগনের তথ্য গোপনীয় থাকায় অপারেশনাল এবং লজিস্টিক খরচের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা আনুমানিক হিসাব কষছেন। আনাদোলু নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
এই মূল অভিযানের আগে সামরিক প্রস্তুতির পেছনেও বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিমানের পুনঃঅবস্থান, এক ডজনেরও বেশি নৌযান মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সামরিক সম্পদ সক্রিয় করতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতেই প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক ব্যয়ের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো অস্ত্রাগারের সক্ষমতা ও পর্যাপ্ততা। ক্রিস্টোফার পেবল সতর্ক করে বলেন, বর্তমান অপারেশনে যেভাবে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই গতি অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখা সম্ভব নয়। অস্ত্রের এই মজুদ সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
