সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আট বছর বয়সী সেই শিশুটি আর নেই। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত্যুর আগে শিশুটি পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছিল।
গত রোববার (১ মার্চ) রাতে শিশুটির গলায় একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়। নিহতের চাচা আজিজ জানান, সোমবার রাত পর্যন্ত শিশুটি স্থিতিশীল ছিল এবং ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করছিল। তবে শেষ রাতে তার প্রচণ্ড অস্বস্তি শুরু হয় এবং ভোররাতের দিকে সে মারা যায়।
চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে অত্যন্ত নৃশংস আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধর্ষণের পাশাপাশি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উরুর অংশে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে শিশুটি ইশারায় একজনের নাম বলার চেষ্টা করেছিল, যা অস্পষ্ট ছিল। তবে শরীরের অভ্যন্তরীণ আঘাতের মাত্রা এতোই বেশি ছিল যে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ইকোপার্কের গহিন পাহাড়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় গত ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেছিলেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুরুতে মামলাটি অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা হলেও শিশুটির মৃত্যুর পর এখন তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। পুলিশ এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে।







