শাজারেহ তাইয়েবাহ (Shajareh Tayyebeh) স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে বিবিসির সংবাদ পরিবেশন নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সংবাদ বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে কিছু নির্দিষ্ট ভাষাগত কৌশল ব্যবহার করেছে, যা হামলার ভয়াবহতা ও দায়বদ্ধতাকে আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনের প্রধান তিনটি বিতর্কিত দিক
১. ‘নিহত’ শব্দের পরিবর্তে ‘মৃত্যু’ শব্দের ব্যবহার সমালোচকরা বলছেন, বিবিসি তাদের সংবাদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘Killed’ (নিহত) শব্দের পরিবর্তে ‘Died’ (মারা গেছে) শব্দটি ব্যবহার করেছে। ‘নিহত’ শব্দটি একটি বাহ্যিক শক্তি বা হামলার দ্বারা জীবনহানিকে নির্দেশ করে, যা এখানে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে। এর ফলে একটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সাধারণ কোনো অপমৃত্যু বা প্রাকৃতিক মৃত্যুর মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২. নেপথ্য কারিগরদের নাম আড়াল করতে ‘প্যাসিভ ভয়েস’ ব্যবহার প্রতিবেদনে বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে এমনভাবে প্যাসিভ ভয়েস (Passive Voice) ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে হামলার মূল হোতা—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাম সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। “স্কুলটি হামলার শিকার হয়েছে” বা “এতজন মারা গেছে”—এমন ঢংয়ে সংবাদ পরিবেশন করায় সাধারণ পাঠকের মনে এটি স্পষ্ট হয় না যে এই হামলার পেছনে কার হাত ছিল। এটি অপরাধীর দায়বদ্ধতা কমানোর একটি পরোক্ষ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
৩. হামলাকে কেবল ‘ইরানের দাবি’ হিসেবে উপস্থাপন বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে বারবার “ইরান বলছে” (Iran says) বা “ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি” (Claims by Iranian media) বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করেছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র এবং ভিডিও ফুটেজ দ্বারা হামলার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও, এই ধরনের শব্দ চয়ন হামলার প্রকৃত ঘটনাকে কেবল একটি একতরফা অভিযোগ বা সন্দেহের তালিকায় ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে হামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।







