নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিক একাধিক পোস্টে মুনির হাজারি নামে এক ব্যক্তি, নিজেকে ‘উম্মাহদরদী’ পরিচয়ে উপস্থাপনকারী আলোচিত ইসলামি বক্তা হারুন ইজহার এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ জামিন প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে, মামলার কাগজপত্র এক বছরের বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছে এবং মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে। পোস্টগুলো প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গ্রেফতারের পর পরিবারকে ‘ছয় মাস অপেক্ষা’ পরামর্শ
ফেসবুক পোস্টে মুনির হাজারি দাবি করেন, গ্রেফতারের প্রায় দেড় মাস পর তার পরিবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হারুন ইজহারের কাছে গেলে তিনি কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেন, “যান, ছয় মাস নাকে তেল দিয়ে ঘুমান।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবার তখন দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় গিয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফেরত আসেন।
দ্রুত জামিনের আশ্বাস, তারপর দীর্ঘ এক বছর
মুনিরের দাবি, পরে হারুন ইজহারের এক ঘনিষ্ঠ আইনি উপদেষ্টা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “দেড় মাস তো হয়ে গেছে, কাগজ দেন। এক সপ্তাহের মধ্যে জামিন করিয়ে দেব। সব মামলা আমি দেখি।”
এই আশ্বাসে পরিবার মামলার কাগজপত্র তার হাতে তুলে দেয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাগজপত্র আটকে রাখা হয়। এ সময় বিভিন্ন অজুহাতে দফায় দফায় অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা দিলে “এক সপ্তাহের মধ্যে জেল থেকে বের করে আনা হবে” এমন প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন মুনির হাজারি।
‘দুর্বল মামলা’, তবু দীর্ঘ কারাবাস
ফেসবুক পোস্টে মুনির হাজারি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তিনি এজাহারভুক্ত আসামি নন, তার কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই এবং অন্য আসামিদের জবানবন্দিতেও তার নাম উল্লেখ নেই।
এছাড়া তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, বিস্ফোরক বা উগ্রবাদী বইপুস্তক উদ্ধার দেখানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই ধরনের মামলায় সহ-আসামিরা ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে জামিন পেলেও তাকে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “যেকেউ কাগজ দেখলে বুঝতো, এই মামলায় এতদিন জামিন না হওয়ার কথা না।”
নিজ উদ্যোগে এক সপ্তাহে জামিন
পোস্টে মুনির হাজারি জানান, পরে পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হলে তিনি কারাগার থেকেই এক আইনজীবীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। ওই আইনজীবীর মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি জামিন পান।
তার দাবি, আইনজীবী কাগজপত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এ মামলায় এখনও জামিন হয়নি কেন?”
মুনিরের মতে, যদি শুরুতেই সঠিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো, তাহলে অনেক আগেই জামিন সম্ভব ছিল।
‘পরিকল্পিত বিলম্ব’ এর অভিযোগ
মুনির হাজারি তার পোস্টে অভিযোগ করেন, মামলার কাগজ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে তার জামিন বিলম্বিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, তিনি মুক্তি পেলে এদের সব ভুজুংভাজুং জাতির সাসনে ফাঁস হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অপপ্রচার ও বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি এসবের পরও “ভুঁইফোড় সংগঠন ও বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম” সম্পর্কে সতর্ক করার কাজ চালিয়ে যাবেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে হারুন ইজহার বা তার সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সামাজিক মাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী।
