খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ (৫৫) দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে খুলনা মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়ের বাটা শোরুমের সামনে জনসম্মুখে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেস্টর ছোট ভাই।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অশোক ঘোষ নামের এক ব্যক্তিকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অশোক ঘোষ নামের এক ব্যক্তিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’। প্রায় ছয় থেকে সাতজন হামলাকারী এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। তারা মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ট্রাফিক বিভাগের এক পরিদর্শক অশোক ঘোষকে কোমরে পিস্তলসহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করেন।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হামলায় মোট সাতজন অংশ নেয় এবং তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল।
রূপসা প্রতিনিধি জানান, জনাকীর্ণ ডাকবাংলা মার্কেট এলাকায় গুলি ও কুপিয়ে এই শ্রমিক নেতাকে হত্যা করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে তিনি ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
