ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তার সবচেয়ে উন্নত ও নির্ভুল গাইডেড অস্ত্র (Precision-guided weapons) এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর সংকটে পড়ার মুখে রয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ব্যবহারের এই উচ্চ হার বজায় থাকলে দেশটির সামরিক মজুদে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেবে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইরান ও তার মিত্রদের ছোড়া ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়মিতভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খুব শিগগিরই মার্কিন সেনাবাহিনীকে ‘বেছে বেছে হামলা ঠেকানোর’ (Selective defense) মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। অর্থাৎ, সব হামলা না ঠেকিয়ে কেবল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলো রক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার (Mark Warner) বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সরাসরি বলেছেন, “আমাদের গোলাবারুদ এখন কমে গেছে।” তার এই বক্তব্য ওয়াশিংটনের সামরিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে হারে উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করছে, সে হারে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চললে অস্ত্রের এই ঘাটতি মার্কিন সামরিক কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক উপস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন মিত্রদের কাছ থেকে অস্ত্র সহায়তা নেওয়া বা জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবলেও, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
