ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের নেপথ্যে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার অবৈধ রিকশা গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার মধ্যরাতের এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। এই ঘটনার পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইনস্টিটিউটের লতিফ হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলিটেকনিক ক্যাম্পাস ও এর খেলার মাঠ ঘিরে অন্তত ৩০টি অবৈধ রিকশা গ্যারেজ ছিল। এসব গ্যারেজ থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হতো। গত ২৭ জানুয়ারি ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসব গ্যারেজ উচ্ছেদ করেন। রিকশাচালকদের দাবি, শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের অনুসারীরা অর্থের বিনিময়ে এই গ্যারেজগুলো পরিচালনা করতেন।
গ্যারেজ উচ্ছেদের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের পর ছাত্রদলে যোগ দেওয়া সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীরা এই চাঁদাবাজি সচল রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সোমবার রাতে তারাবির নামাজ শেষে ফেরার পথে শিবিরের এক নেতাকে গ্যারেজ নিয়ে হুমকি দেওয়া হলে বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লতিফ হলে হামলা চালায় ছাত্রদলের একাংশ ও কিছু বহিরাগত।
এই সংঘর্ষে নেতৃত্বদানকারী হিসেবে মেহেদি, সচিন ও অনিকসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যারা গত ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি ছাত্রদলের এক নেতা এই হামলার জন্য ‘ছাত্রদল নামধারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশকারীদের প্রভাব নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় পুনরায় কিছু অবৈধ রিকশা গ্যারেজ গড়ে উঠতে দেখা গেছে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মাদকের আখড়া ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে এই গ্যারেজগুলোর বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, ছাত্রশিবির মূলত হল দখলের উদ্দেশ্যে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করতে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
