ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। তবে সরকার সেই আশঙ্কা নাকচ করে জানিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তার আগে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয় হবে, সে বিষয়ে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সংসদীয় সিদ্ধান্তের পরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে।
একই সুরে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, আগের সরকারের করা দলীয় প্রতীকের বিধান অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাতিল করেছিল। আগামী ১২ মার্চ সংসদে এই অধ্যাদেশটি উত্থাপন করা হবে। আইনটি পাস হওয়ার পর নির্বাচনের পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রমজানের পর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে। ইসি সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী ইতোমধ্যেই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর ২২ ফেব্রুয়ারি সিটি করপোরেশনগুলোতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান অবস্থা জানতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। আইনগত জটিলতা কাটলে এবং সংসদের অনুমোদন পেলে চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উৎসবে মাতবে দেশ—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
