সিলেটের জকিগঞ্জে রাস্তার সরকারি ইট লুটপাটের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতা মাহফুজ ইসলাম চৌধুরীসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এই আটকের ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, মাহফুজ ইট চুরির সঙ্গে জড়িত নন, বরং তিনি লুটপাট ঠেকাতে প্রশাসনকে সহায়তা করছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে হাজিগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত ডাইক বা বাঁধ নির্মাণের কাজকে কেন্দ্র করে। বাঁধের কাজ শুরু হলে দেখা যায়, ঠিকাদার মাটির নিচে পুরোনো ইট রেখেই ভরাট কাজ চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার মঈন প্রশাসনের পরামর্শে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ইটগুলো তুলে নিরাপদ স্থানে রাখার উদ্যোগ নেন।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ইটগুলো তুলে মসজিদের পাশে জমা করার সময় স্থানীয় একটি ‘অতিউৎসাহী মহল’ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ ইট লুটপাটে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সহিংসতা এড়াতে ইউপি চেয়ারম্যান দ্রুত থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবগত করেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার মঈন জানান, প্রশাসন যখন অভিযান শুরু করে, তখন মাহফুজ, আরিফ ও হদিসহ স্থানীয় যুবকরা ইট লুটপাট থামাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাহফুজকে এই ঘটনায় আটক করা একটি বিশাল ভুল বোঝাবুঝি। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে এই ঘটনায় হয়রানি করা না হয়।
চেয়ারম্যান আরও স্পষ্ট করেন যে, ওই রাস্তায় বিপুল পরিমাণ ইট ছিল এবং সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার কোনো বাজেট না থাকায় এলাকাবাসীর সহায়তায় কাজটি করা হচ্ছিল। এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি বরং একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে লুটপাটের পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে পুলিশ ও বিজিবি লুট হওয়া ইট উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।
