মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে ইরানকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের খবরের প্রেক্ষাপটে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ অঞ্চলের প্রতিটি গতিবিধি ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সামরিক পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে বলেন, কে কার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছে সে বিষয়ে মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি অবগত। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতার বিরুদ্ধে পেন্টাগন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি একটি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এখন কেবল সেই সব ইরানিদেরই চিন্তিত হওয়া উচিত, যারা বেঁচে থাকার আশা করছেন।”
এর আগে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন জাহাজ, বিমান ও রাডার সিস্টেমের অবস্থান সম্পর্কে তেহরানকে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে মস্কো। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, রাশিয়ার সরবরাহ করা এই গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেই ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার ছক তৈরি করছে।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পুতিন চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। তবে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে মস্কো এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। রাশিয়ার স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ইরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে আরও নিখুঁত করতে সক্ষম হচ্ছে, যা ঠেকাতে বর্তমানে পেন্টাগন রণকৌশল পরিবর্তনের কথা ভাবছে।
