ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বিভাগীয় পদ ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিতর্কিত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কর্তৃক দায়ের করা হত্যা মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান দুই উসকানিদাতা হিসেবে নাম এসেছে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের। অভিযোগ উঠেছে, তারা দুজনেই ক্যাম্পাসে বিতর্কিত সংগঠন ‘ইসকন’-এর (ISKCON) সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং এই পরিচয় ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে দীর্ঘকাল ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শ্যাম সুন্দর সরকার তার মেয়াদের শেষ দিকে বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি পান এবং বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকে নিয়মানুযায়ী অন্য বিভাগে বদলি করা হয়। কিন্তু তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে স্ব-পদে বহাল থাকতে চেয়েছিলেন। এই প্রশাসনিক রদবদল ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরেই তারা আসমা সাদিয়া রুনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীল নকশা তৈরি করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ইস্যুটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিশেষ মহলের দোর্দণ্ড প্রতাপ কমেনি। বিশেষ করে ইসকন অ্যাক্টিভিজমের আড়ালে তারা প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং সহকর্মীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সংগঠনের দোহাই দিয়ে অপরাধীরা পার না পেয়ে যায়। ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।







