রাজশাহীতে এক কলেজ শিক্ষকের কাছে লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তাকে মারধরের অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—শাহ মখদুম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রদল নেতা আবু সুফিয়ান চন্দন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে মহানগরীর শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান জুয়েলের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহারে শিক্ষক জুয়েল উল্লেখ করেন, ওই দুই ছাত্রদল নেতা গত তিন মাস ধরে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২৬ নভেম্বর তাকে চাকু দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে কাদিরগঞ্জ এলাকায় তাকে একা পেয়ে মারধর ও পুনরায় হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগে জানান।
গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা আগে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, শিক্ষক জুয়েল আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুমারপাড়ায় ধ্বংস হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পুনরায় ব্যানার টাঙানোর ঘটনার সঙ্গে ওই শিক্ষক জড়িত। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, আসামিদের চাঁদাবাজির অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত আছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার সহযোগিতার প্রমাণ রয়েছে এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানোর অভিযোগটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, অপরাধ ঢাকতেই তারা এখন রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করছেন।







