মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেও, তা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফাইড) প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও তেহরানের বর্তমান কাঠামো উপড়ে ফেলা সহজ হবে না।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে সম্পন্ন হওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত মজবুত ও কার্যকর ‘প্রোটোকল’ আগে থেকেই তৈরি করা আছে। ফলে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হলেও ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধী দলগুলো বর্তমানে অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন থাকায় বড় কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটানো আপাতত অবাস্তব বলে মনে করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত অনুমোদনের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প এমন একজনকে নেতৃত্বে দেখতে চান যিনি বর্তমান নীতি পরিবর্তন করবেন। অন্যথায় পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধে জড়াতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল দেশটির গর্বিত জনগণই নির্ধারণ করবে। বাইরের কোনো শক্তির এখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।
গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনকাঠামোর দৃঢ়তা—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে মোড় নিতে পারে।
