ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেশিয়াম স্থাপন, কেন্দ্রীয় মাঠ সংস্কার এবং শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের বিভিন্ন সুবিধা উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
আজ ডাকসুর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মসজিদ উদ্বোধন এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সাদিক কায়েম বলেন, গত পাঁচ মাসে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক উদ্যোগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত একটি ক্যাম্পাস রেখে যেতে চাই।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক জিমনেশিয়াম নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমান গ্রুপের সহায়তায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জিম দ্রুত চালু করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার বাজেট পাওয়া গেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন জানান, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের নামাজের স্থানটি বর্ষাকালে নোংরা পানিতে ডুবে যেত এবং পর্যাপ্ত সুবিধা ছিল না। এখন সেখানে টাইলস বসানোসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হচ্ছে এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে নারীদের জন্য একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত জিমনেশিয়াম স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা পৃথক ব্যবস্থাপনায় সারাদিন জিম ব্যবহার করতে পারবেন। জিমে ইতোমধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিম ইন্সট্রুমেন্ট বসানোর পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।
খেলার মাঠ উন্নয়ন প্রসঙ্গে আরমান হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে প্রাপ্ত ২ কোটি টাকার অর্থায়নে মাঠ সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে। সংস্কারের আওতায় মাঠের মান উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খেলোয়াড়বান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ইনডোর অনুশীলনে যে সমস্যা হয় তা সমাধানে ইনডোরে এডজাস্টার ফ্যান স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং খেলোয়াড়রা স্বাচ্ছন্দ্যে অনুশীলন করতে পারবেন।
মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম পাশের দেয়ালে তারকাঁটা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা শিগগিরই স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
আরমান হোসেন আরও বলেন, খেলার মাঠের অপব্যবহার রোধে উচ্চ আদালতের রায়ে মাঠে খেলাধুলা ছাড়া অন্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে মাঠ সংরক্ষণ ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) স্মারক জমা দেওয়ার পর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (রুয়েট)। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিযোগিতাগুলো শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি আরও বিকশিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।







