ইরানের তেল স্থাপনায় চালানো হামলার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। রোববার (৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং দাম আকাশচুম্বী হবে।
কালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তেলের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে ট্রাম্প যে আশ্বাস দিচ্ছেন তা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেল বিক্রির পথ যেমন বন্ধ হয়ে যাবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল উৎপাদনের সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে ইরানি স্পিকার বলেন, কেবল আমেরিকা নয়, নেতানিয়াহুর ‘ভ্রান্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার’ কারণেই আজ পুরো বিশ্ব যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে। তার মতে, এই অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি ইসরায়েলি নেতৃত্বই দায়ী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) ৬.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৬.৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৪.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৯.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে সেখানে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম গড়ে ৩২ সেন্ট বেড়ে ৩.৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
