তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি ঢাকায় সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের ছবি ও খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী কি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, নাকি পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এক-এগারোর সময়কার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সাবেক এই কূটনীতিক অতীতেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তাই তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহ বিবেচনা করেই তাকে পররাষ্ট্রবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে ইফতেখার চৌধুরী দলটির পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তিনি জামায়াতের ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স কনসালটেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে দলটি তার পরামর্শ নিচ্ছে।
এক-এগারোর সময় ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের মতে, ওই সময় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে পাঠানো একটি বিতর্কিত চিঠির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল।
এক-এগারোর পর তিনি দেশে ফিরে এসে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের ছোট বোন নিনা চৌধুরীর স্বামী। তার পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রশাসন ও রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছে।
তার বড় ভাই ফারুক আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্য ভাই এনাম আহমেদ চৌধুরী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০০১–২০০৬ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
সব মিলিয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটে ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে জামায়াতের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।







