চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপির হামলায় গুরুতর আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) রাতে হওয়া সেই একই হামলায় তার বড় ভাই হাফিজুর রহমানও নিহত হয়েছিলেন।
ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মফিজুর রহমান ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ লড়াই শেষে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সংঘর্ষের সময় মাওলানা মফিজুর রহমানকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৫৫)। পেশায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল। সেদিন রাতেই ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রেশ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর হাসাদহ বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাওলানা মফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের বড় ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীদের আসামি করা হয়। পুলিশ ইতিপূর্বেই প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মাওলানা মফিজুর রহমানের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর জীবননগর ও হাসাদহ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
