রাজধানীর আফতাবনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত কয়েকজন নেতাকর্মী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
জানা গেছে, রাজধানীর আফতাবনগরের সেক্টর–১ এর ব্লক–এম এলাকার প্রধান সড়কে অবস্থিত ইলিশ বাড়ি রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসে সম্প্রতি এই পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অনলাইন গণমাধ্যম দ্য ডেল্টাগ্রাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পার্টিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং কেউ কেউ বিভিন্ন মামলার আসামিও। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই সময় বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার তথ্য উঠে আসে।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
নিষিদ্ধ হলেও সক্রিয়তায় স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী গোপনে যোগাযোগ ও বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। আফতাবনগরের এই পার্টিকে সেই ধারাবাহিকতারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
একাধিক সূত্র জানায়, পার্টিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। এর মাঝে একজন নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা, সে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দায়ীত্বেও ছিলো বলে জানা যায়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এ ঘটনায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, জুলাইয়ের সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা দৃশ্যমান নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি প্রকাশ্যে সামাজিক আয়োজন করতে পারেন, তাহলে আইন প্রয়োগ ও নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।







