ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফাতে অবস্থিত একটি তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হামলাটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ইরান বিমানবাহিনীর বিশেষায়িত ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাইফার কৌশলগত অবস্থানে আঘাত হেনেছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ড্রোনগুলো সরাসরি হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং বৃহদাকার জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। হাইফা ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বন্দরনগরী হওয়ায় এই হামলাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান।
তবে এই ড্রোন হামলার ফলে সেখানে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলার পর হাইফা ও এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের বর্তমান প্রশাসন জ্বালানি খাতের ওপর যেকোনো আঘাতের বিপরীতে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিল, হাইফার এই হামলাকে তারই বাস্তবায়ন বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।







