মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে আধিপত্য বিস্তার ও ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এ সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন (কালু) ও দলীয় কর্মী খাইরুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাঁদের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০) ও রাসেল হোসেনকে (৪২) গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, গুরুতর আহত দুজনের মাথায় গভীর জখম থাকায় তাঁদের শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁদের কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন অভিযোগ করেন, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর অনুসারী সারগিদুল ইসলাম ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে সারগিদুলের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কর্মীদের ওপর আঘাত করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভিজিএফের চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। বরং ইউনিয়ন পরিষদে আধিপত্য বিস্তার করতে আলফাজ উদ্দীন ও তাঁর সমর্থকেরা সেখানে যান। তাঁদের বাধা দিতে গেলে তাঁরাই প্রথমে হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে গাংনী উপজেলা বিএনপিতে দুটি ধারা সক্রিয় রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন, যার পক্ষে সক্রিয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ (মিল্টন)। সংঘর্ষে আহত উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন এই পক্ষের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন। তবে নির্বাচনে জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদা। এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মারকাজুল ইসলাম জানান, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সাকলাইন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে ৭ নম্বর ইউপি সদস্য সারগিদুল ইসলামকে প্যানেল চেয়ারম্যান করা হয়। যদিও তিনি বিএনপির কোনো পদে নেই, তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







