ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দ্বিতীয় সপ্তাহে বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক আরও দুটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। এর ফলে বর্তমান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের হারিয়ে যাওয়া মোট ড্রোনের সংখ্যা বেড়ে ১২-তে দাঁড়িয়েছে। আজ ইরান একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ভিডিও প্রকাশ করে তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক এক বিশেষ সামরিক অভিযান চলাকালীন ড্রোন দুটি ধ্বংস হয়। কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ড্রোনগুলো নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস হওয়াকে মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ৬ মার্চ কুয়েতে আহত হওয়া এক ন্যাশনাল গার্ড সেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় নিহতের এই তালিকা আরও দীর্ঘ হলো।
শুরুতে উত্তেজনা কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, তা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এই সংঘাতের দাবানল প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানের এই আক্রমণাত্মক রণকৌশল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরাশক্তিদের সরাসরি এই সম্পৃক্ততা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।







