মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ৬টি শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড বা বোমা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মিরর’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মার্কিন সামরিক পরিভাষায় পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে যাওয়া বা হাতছাড়া হওয়ার ঘটনাকে ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বলা হয়। পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২টি এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও অন্তত ৬টি পারমাণবিক বোমার হদিস আজও পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্রগুলো যদি ভুল হাতে পড়ে, তবে তা নজিরবিহীন বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের আকাশে। দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষের পর একটি ‘মার্ক-১৫’ হাইড্রোজেন বোমা জর্জিয়ার উপকূলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। প্রায় ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের এই বোমার ধ্বংসক্ষমতা নাগাসাকিতে ফেলা বোমার চেয়ে ১৯০ গুণ বেশি ছিল। যদিও শুরুতে মার্কিন বাহিনী এটি নিষ্ক্রিয় দাবি করেছিল, পরে ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায় সেটি ছিল একটি সম্পূর্ণ সচল ও ভয়ংকর পারমাণবিক অস্ত্র।
এছাড়া ১৯৬৬ সালে ভূমধ্যসাগরে একটি বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায়, যার ওয়ারহেড আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সংঘাতের আবহে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো কোনোভাবে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা শত্রু রাষ্ট্রের হস্তগত হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের কপালে ভাঁজ পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস মনে করেন, ইসরায়েল ও মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রযুক্তি ও জনবল থাকায় ইরান যেকোনো সময় তাদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারবে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতির চাপে এবং মোজতবা খামেনির কঠোর নেতৃত্বে ইরান উত্তর কোরিয়ার মতো যেকোনো উপায়ে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার পথে আরও দ্রুত হাঁটতে পারে।
এই নিখোঁজ পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো যদি কোনোভাবে সংঘাতপূর্ণ কোনো দেশের হস্তগত হয়, তবে বিশ্ব এক ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই ‘হারানো বোমা’গুলো এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় রহস্য ও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।







