পাকিস্তানকে কম রানে আটকে দেওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট ও ২০৯ বল হাতে রেখেই ১৫.১ ওভারে জয় নিশ্চিত করে মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। ওপেনার তানজিদ হাসান দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৬৭ রান করেন।
নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৭ রান। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে একই মাঠে ১৩ মার্চ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন নাহিদ রানা। জবাবে বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান। ৪২ বলে পাঁচটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
তাকে ভালো সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১০ ওভারে ৮২ রানের জুটি গড়েন। শান্ত ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হলেও তানজিদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন এবং লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসে শুরুতে উইকেট না পড়লেও রান তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দশম ওভারে তিনি প্রথম সাফল্য এনে দেন। ওপেনার ফারহান ৩৮ বলে ২৭ রান করে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
এরপর নিজের পরের ওভারেই শামিল হোসেনকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। টানা তৃতীয় ওভারে ওপেনার মাজ সাদকাতকেও আউট করেন তিনি। ২৮ বলে ১৮ রান করেন সাদকাত।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে তাকেও ফেরান নাহিদ রানা। উইকেটের পেছনে লিটন দাস ক্যাচ নেন। পরে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। ৮ বলে ৫ রান করেন সালমান।
নাহিদের পর আক্রমণে এসে সফল হন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি আব্দুল সামাদ ও হুসাইন তালাতকে ফিরিয়ে দেন। তালাত প্রথমে নট আউট হলেও রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে নেন মিরাজ। ১৩ বলে ৪ রান করেন তালাত। পরে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরেন শাহিন শাহ আফ্রিদিও।
এর আগে তাসকিন আহমেদ মোহাম্মদ ওয়াসিমকে শূন্য রানে আউট করেন। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদের জুটিতে কোনো মতে একশ পার করে পাকিস্তান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি ফাহিমও।
মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তাসকিন আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪৭ বলে ৩৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (ফাহিম ৩৭, ফারহান ২৭; নাহিদ ৫/২৪, মিরাজ ৩/২৯)।
বাংলাদেশ: ১৫.১ ওভারে ১১৫/২ (তানজিদ ৬৭*, নাজমুল ২৭; আফ্রিদি ১/৩৫)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা।
