বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় সিবগাতুল্লাহ বলেন, ১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত শহীদ দিবস। প্রতি বছরই সংগঠনটি দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে থাকে।
তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরে ছাত্রশিবির আয়োজিত নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলায় ছাত্রশিবিরের কর্মী সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব ও জাব্বার শহীদ হন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর সাব্বিরই ছিলেন ছাত্রশিবিরের প্রথম শহীদ। সেদিন লোহার রড, পাইপগান, দা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পরে শাহাদাত বরণ করেন আবদুল হামিদ, আবদুল জাব্বার ও আইয়ুব। ওই দিনের নির্মম ঘটনার ফলে শিক্ষানগরী রাজশাহীর পরিবেশ শোক ও ক্ষোভে ভারী হয়ে ওঠে।
সিবগাতুল্লাহ বলেন, ১৯৮২ সালের সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একে একে সংগঠনের ১৭ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব ত্যাগ ও শাহাদাতের পথ ধরেই ছাত্রশিবির তার লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় তিনি ১৯৮২ সালের ১১ মার্চের হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাসেম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. মো. জাহাঙ্গীর, শহীদ সাব্বির হোসেনের ভাই মো. আকরাম, রাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ মো. নুরুজ্জামান এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ডা. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







