ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মোট ১০৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের আকাশসীমায় এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি-র তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত ড্রোনগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী সব মডেল রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আইকনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) এবং ইসরায়েলি প্রযুক্তির ‘হার্মিস’ (Hermes), ‘হেরন’ (Heron) ও ‘অরবিটার’ (Orbiter)-এর মতো ড্রোন উল্লেখযোগ্য। ইরানের দাবি, এই ড্রোনগুলো তাদের কৌশলগত অবস্থানে নজরদারি ও হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল।
বিপ্লবী গার্ডের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস করা ১০৪টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিল প্রাণঘাতী অস্ত্র ও মিসাইল বহনকারী। এগুলোকে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছে তেহরান।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির অধীনে ইরান এখন ড্রোন যুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ড্রোনের এই বিশাল সংখ্যার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই ড্রোন যুদ্ধ ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার উত্তেজনাকে এক চরম শিখরে নিয়ে গেছে। একের পর এক ড্রোন হারানোর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকাশ অভিযানের কৌশল নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।







