বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। তবে অধিবেশন শুরুর আগেই সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমনকি প্রথম দিনের বৈঠকেই বিরোধী দলের ওয়াকআউটের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তাদের মিত্র সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া, ওই পরিষদের শপথসংক্রান্ত চিঠি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে উচ্চ আদালতের জারি করা রুলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও মতবিরোধ বাড়ছে।
এদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক।
বিরোধী দল অধিবেশনে অংশ নিলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় তারা অধিবেশন বর্জন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
দীর্ঘ দেড় দশকের একতরফা সংসদের অবসান ঘটিয়ে আজ নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এবার সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধী দলও তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিরোধী দল ইতোমধ্যে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার কাজ করবে। পারস্পরিক সংলাপ ও ঐকমত্যের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান সম্ভব বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অপরদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে সরকারের ভালো কাজকে সমর্থন করা হবে। তবে সরকার ভুল করলে তা সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে প্রতিবাদও করা হবে।
আজ সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
প্রথম বৈঠকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বৈঠকের পর দুদিন বিরতি দিয়ে ১৫ মার্চ দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় দুই সপ্তাহ বিরতি দিয়ে ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হতে পারে।
এদিকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কে আসবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্পিকার হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. এম ওসমান ফারুক এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথম দিনের অধিবেশনে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশও সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হতে পারে।
