জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধারা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি পালিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে “লং মার্চ ফর জুলাই সনদ” শীর্ষক একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে আয়োজিত এই সমাবেশে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের দাবির সপক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি প্রদান করা হয়। চিঠিতে জানানো হয়, ৫ আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানের পর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকার পার করে দেশ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। তাই নবগঠিত সরকারকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ইতোমধ্যে গণভোট ও সর্বদলীয় স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। এই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান তারা।
খোলা চিঠিতে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, শহীদদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা, আহত যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সুরক্ষা প্রদান এবং সংস্কারের অগ্রগতি নিয়মিত জাতির সামনে প্রকাশ করা।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন যে, জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির সম্মিলিত বিদ্রোহ। শহীদ পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে কোনো দয়া নয়, বরং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।







