সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ায় নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি নেতা রুমান আহমদ। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির ১৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ছিনতাই ও অপহরণ মামলায় ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮) আটকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
রুমান আহমদ মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরীর কাছে তার অব্যাহতির পত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হোক, তা তিনি চান না। দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন সিলেট নগরীর তাঁতিপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামে একটি বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। সেখান থেকে দুই প্রবাসীকে উদ্ধারসহ অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রুমান আহমদের ছেলে ফারদিনও ছিলেন, যার ফলে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, গ্রেপ্তারের পর ফারদিনের সঙ্গে স্থানীয় অনেক নেতার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় রুমান আহমদ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। তবে রুমান আহমদের দাবি, তার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। ভবিষ্যতে আদালতে ছেলের নির্দোষিতা প্রমাণ হলে তিনি আবারও দলের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সিলেটের রাজনৈতিক মহলে রুমান আহমদের এই পদত্যাগ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। অপরাধের সঙ্গে পরিবারের সদস্যের নাম আসায় তাৎক্ষণিক পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিবাচক নৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন। পুলিশ বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।







