দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। তবে প্রথম অধিবেশনেই সরকারি দলের উত্থাপিত শোক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত শোক প্রস্তাবে বিভিন্ন সময়ের নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করা হলেও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পরপরই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বক্তব্য দিয়ে শোক প্রস্তাবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নাম যুক্ত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। সে কারণে শহীদ ওসমান হাদীর নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বক্তব্যে বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর নামের পাশাপাশি শহীদ আবরার ফাহাদ ও সীমান্তে নিহত ফেলানীর নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এসব শহীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উত্থাপিত শোক প্রস্তাবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নাম না থাকা নিয়ে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহীদদের নাম বাদ দেওয়া দুঃখজনক এবং এটি সংশোধন করা উচিত।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলগুলো সেই শাসনকে “ফ্যাসিবাদী শাসন” হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। ওই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং নতুন সংসদ গঠিত হয়। আজ অনুষ্ঠিত হলো সেই সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে প্রথম অধিবেশনেই শোক প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







