ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত ড্রোনের উন্নত যুদ্ধকৌশল ইরানকে দিয়ে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে খবর দিয়েছে সিএনএন। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা তেহরানের আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কোর এই সমর্থন এখন আর কেবল সাধারণ গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন বিস্তারিত অপারেশনাল নির্দেশনায় রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোনের (UAS) নিখুঁত লক্ষ্যভেদী কৌশল, যা রাশিয়া ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে সফলভাবে প্রয়োগ করেছে।
ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলো বর্তমানে রাশিয়াতে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে এগুলো বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, রাশিয়ার এই অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ড্রোনগুলোকে সমন্বিত তরঙ্গে (waves) উৎক্ষেপণ করা এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া। কিছু ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে এক রাতেই এক হাজারেরও বেশি ড্রোনের মোকাবিলা করতে হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তেহরানের প্রতি মস্কোর সামরিক সমর্থন বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ইরান সরকারকে ড্রোন দিয়ে সহায়তা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও হাত মেলাতে পারে।
এদিকে, ইরানকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা। বেইজিং প্রকাশ্যেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করেনি চীন।







