রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রনেতা শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির শাখা সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল ও সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং প্রশাসনের একশ্রেণির পক্ষপাতদুষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মেধাবী ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান নোমানীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ছিল ক্যাম্পাসে ভিন্নমত ও আদর্শিক নেতৃত্বকে দমন করার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
নেতারা বলেন, ঘটনার ১৭ বছর পার হলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত হয়নি। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসন খুনিদের রক্ষা করতে এবং মামলার তদন্ত ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে ভূমিকা রেখেছিল, যা বিচারহীনতার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। তারা মনে করেন, নোমানী হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতি ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে সহিংসতা ও নৈরাজ্যের পথ প্রশস্ত করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ নোমানী হত্যার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রশাসনের যেসব ব্যক্তি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা বা খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নেতারা বলেন, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং একদিন খুনিদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
পরিশেষে তারা বলেন, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শহীদ নোমানীর আদর্শ ছাত্রসমাজকে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও ইসলামী শক্তিগুলোকে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। এছাড়া শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।







