ঝিনাইদহে মহিলা জামায়াতের একটি ইফতার মাহফিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রতিরোধে আহত বিএনপি নেতা তরু মিয়া মারা গেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে জেলা সদরের গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
নিহত তরু মিয়া সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজন সফল করার লক্ষ্যে বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের গান্না বাজার শাখার আমির তৈয়বুর রহমানের বাড়িতে নারী কর্মীদের একটি বৈঠক চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে ইফতার মাহফিল করতে বাধা দেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের লোকজন। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জামায়াত কর্মী ও স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তরু মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে তরু মিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার আগেই বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। এতে অন্তত সাতটি দোকান ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরও একজন আহত হন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেক বিল্লাল হোসেন জানান, এলাকায় নতুন করে কোনো সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







