জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে প্রধানতম দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। রোববার রাজধানীর বিজয় সরণির একটি রেস্তোরাঁয় ন্যাশনাল প্রফেশনাল এলায়েন্স আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, সাংবিধানিকতার দোহাই দিয়ে যদি সংস্কার আটকে রাখা হয়, তবে সরকারি অফিসগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি কেন নেই—এই প্রশ্নও উঠতে পারে। তিনি বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ লেখা হয়েছে জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে। একইভাবে সংবিধানে সংস্কার পরিষদের উল্লেখ না থাকলেও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ একসময় ঐকমত্য কমিশনে বলেছিলেন সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদের শর্ত মানতে বাধ্য থাকবেন। কিন্তু বর্তমানে সংসদে গিয়ে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তার আগের বক্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আখতার হোসেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শেখ হাসিনার বিচার ও সংস্কারের প্রশ্ন উঠলেই একটি দল উটপাখির মতো মাথা বালুর মধ্যে গুঁজে রাখত এবং বারবার শুধু নির্বাচন আয়োজনের কথা বলত। তিনি বলেন, তখন বলা হয়েছিল নির্বাচনের পর সংস্কার করা হবে, আর এখন বলা হচ্ছে সংবিধানে তা নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কার চায় না এবং সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে, তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। ২০২৯ সালের নির্বাচনে জনগণ সংস্কারপন্থী প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে নতুন সংসদ গঠন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু সন্ত্রাসী দাবি করছে তার বক্তব্যের কারণে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার কারণে কেউ অসুস্থ হয়ে যায়—এ কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যতদিন রাজনীতিতে আছেন ততদিন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল প্রফেশনাল এলায়েন্সের আহ্বায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ। এছাড়া এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হকসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।







