লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নামে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ ভাগ দাবি করার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে মদাতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের (বিপ্লব) কাছে এই ভাগ দাবি করতে শোনা যায়।
রেকর্ডটিতে শোনা যায়, বিএনপি নেতা সবুজ ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?” ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল, তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন?” এ সময় তিনি চেয়ারম্যানকে ১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অডিও ফাঁসের ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চেয়ারম্যানের স্ত্রীর অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ডে এমপির ৩০ শতাংশ ভাগ নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সবুজ এই অডিও রেকর্ডটি তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হননি এবং সবুজের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে লাইন কেটে দেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় এমপিকে চাল বিতরণের বিষয়টি অবহিত করতে হয়, কিন্তু সেখানে কোনো নির্দিষ্ট কোটা বা পার্সেন্টেজ দেওয়ার বিধান নেই। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮৬৪টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। এমপি ও স্থানীয় নেতাদের এই ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
