সাময়িক মানসিক উত্তেজনা সাধারণত শরীর সহজেই সহ্য করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের আগে রোগী কোনো না কোনো ধরনের তীব্র মানসিক উদ্বেগ বা উত্তেজনার মধ্যে ছিলেন।
বর্তমান সময়ে রোগের নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। ছোটদের মধ্যেও যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনি তরুণদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে আধুনিক জীবনযাত্রা ও বাড়তে থাকা মনস্তাত্ত্বিক চাপ। মন ও শরীর একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মন খারাপ থাকলে শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, মানসিক সমস্যার কারণে শরীরের নানা অসুখ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অসুস্থতা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করতে পারে।
মানসিক চাপ ও হৃদরোগের সম্পর্ক
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ সংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা আর্থিক দুশ্চিন্তা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপের কারণে শরীরে স্নায়ুতন্ত্রের অতিরিক্ত সক্রিয়তা (সিম্প্যাথেটিক ওভারঅ্যাকটিভিটি) তৈরি হয়। ২০২১ সালে প্রায় ৯০০ জন মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। আবার ৫২টি দেশের প্রায় ২৪ হাজার রোগীর ওপর পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকেন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
শরীর ও মনের ওপর চাপের লক্ষণ
মানসিক উত্তেজনা বা উদ্বেগের সময় শরীর বিভিন্ন সংকেত দিতে পারে।
মানসিক লক্ষণ:
-
অস্থিরতা
-
হতাশা ও অবসাদ
-
হঠাৎ রাগ বা বিরক্তি
শারীরিক লক্ষণ:
-
বুক ধড়ফড় করা
-
বুকে ব্যথা
-
দ্রুত হৃদস্পন্দন
-
পেশিতে দুর্বলতা
-
মাথাব্যথা
-
অনিদ্রা
প্রতিকার ও করণীয়
মানসিক প্রস্তুতি: চাপমুক্ত থাকতে ইতিবাচক চিন্তা করা এবং নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন হাঁটা বা শারীরিক ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শখের চর্চা: বই পড়া, বাগান করা বা পছন্দের কোনো কাজে সময় দিলে মন ভালো থাকে।
বিশ্রাম ও পরিবারকে সময় দেওয়া: কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া এবং পরিবারকে সময় দেওয়া মানসিক প্রশান্তি আনে।
ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার: অনেকেই মানসিক চাপের কারণে ধূমপান বা মদ্যপানের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। এসব অভ্যাস থেকে দূরে থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চিকিৎসক বা পেশাদার কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।
