দলান্ধ ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সরকার তাদের খুশি করার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নিয়োগে দলীয়করণের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি পূর্বে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। “এটি প্রমাণ করে দলীয় লোকদের পোস্টিং দিয়ে খুশি করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা নিন্দনীয়,” বলেন তিনি।
এ সময় দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকেও গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন আবদুল হালিম। তাঁর দাবি, সরকার স্থানীয় নির্বাচন না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব পদে মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতা-কর্মীদের বসানো হয়েছে, যাদের অনেকেই জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী। এতে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা পরিষদে নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন, তাদেরই প্রশাসক করা হয়েছে এটি হাস্যকর এবং অগ্রহণযোগ্য।” সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি ‘গর্হিত কাজ’ বলেও উল্লেখ করেন।
এছাড়া সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, পূর্ববর্তী নিয়োগগুলো যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই হয়েছিল, তাই সেগুলো পরিবর্তনের যৌক্তিকতা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নতুন নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংক খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এই পদে বসানো হলেও এবার একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন।
সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুল হালিম বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা জনগণের অগ্রাধিকার তুলে ধরবে। সরকার যদি তা আমলে না নেয়, তাহলে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
