মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মিত্র দেশগুলোর অনীহায় তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেক দেশ যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে সুরক্ষা দিয়ে আসছে, তারা এই সংকটে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেখাচ্ছে না।
ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামুদ্রিক মাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই রুট দিয়ে হয় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প মিত্রদের নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানালেও জার্মানি, স্পেন ও ইতালির মতো দেশগুলো সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের এমন কিছু দেশ আছে যেখানে ৪৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে তাদের রক্ষার জন্য। অথচ আমরা যখন তাদের কাছে মাইন অপসারণকারী জাহাজ চাইলাম, তারা বলল তারা এতে জড়াতে চায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা এই রুটের সুবিধাভোগী, তাদেরই এটি নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নেওয়া উচিত, অন্যথায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সংঘাত না বাড়িয়ে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ফ্রান্স এই উদ্যোগে কিছুটা ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলগামী যেকোনো জাহাজ তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৫ ডলার অতিক্রম করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তেলের এই আকাশচুম্বী দাম আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যেখান দিয়ে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে সেখানে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছেন এবং প্রয়োজন হলে তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাবেন। তবে ইরান যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনায় বসতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
