ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—ইসরায়েলের এমন দাবির মাঝেই তাঁর অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি হাতে লেখা নোট প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে লারিজানির শেষ বার্তা হিসেবে ধারণা করা এই নোটটি ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন যে, তাদের এক অভিযানে আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই খবরের কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ঠিক এই রহস্যময় পরিস্থিতির মাঝেই লারিজানির অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি আসে, যা চলমান সংঘাতে এক নতুন আবেগঘন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রকাশিত নোটে লারিজানি সম্প্রতি মার্কিন হামলায় শহীদ হওয়া ইরানি নৌবাহিনীর সাহসী সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “নৌবাহিনীর সেনাদের শাহাদাত আমাদের বীর জাতির আত্মত্যাগেরই অংশ, যারা আন্তর্জাতিক নিপীড়কদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছে। তাদের স্মৃতি ইরানিদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে এবং এই ত্যাগ আগামী দিনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।”
নিখোঁজ বা নিহত হবার খবরের আগে লারিজানিকে সর্বশেষ ১৩ মার্চ তেহরানের আল-কুদস দিবসের র্যালিতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে মিছিলে বোমা হামলার ঘটনার পর তিনি শত্রুদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, “ভয় ও হতাশা থেকেই এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে।”
তৎকালীন বক্তব্যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। লারিজানি বলেছিলেন, “ট্রাম্প বোঝেন না ইরানিরা কতটা সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইরানের ওপর যত বেশি চাপ দেওয়া হবে, এই জাতির লড়াই করার শক্তি ততই বাড়বে।” তাঁর এই শেষ বার্তাগুলোকে এখন ইরানের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখছেন দেশটির সাধারণ মানুষ ও সামরিক বাহিনী।
