মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানে চলমান সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই বন্ধ করা হতে পারে। ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। তবে অভিযান বন্ধের সম্ভাবনা থাকলেও এখনই ইরান ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সবদিক থেকেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে সহযোগিতা পাওয়া গেলেও ন্যাটোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা মেলেনি। এই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তেহরান কর্তৃপক্ষ বুধবার নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি, উপ-প্রধান আলীরেজা বায়েত এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। রাজধানী তেল আবিবের কাছে রামাত গান এলাকায় হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সাভিদোর রেলস্টেশনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেরুজালেম ও বেনি ব্রাকেও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের শতাধিক সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতেও ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান দাবি করেছে, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে।
