তেহরানের রেভ্যুলেশন স্কয়ারে আজ এক আবেগঘন পরিবেশে সমবেত হয়েছেন লাখো ইরানি জনতা। সম্প্রতি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলায়মানি, গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং যুদ্ধজাহাজ ‘দানা’-তে দায়িত্বরত শহীদ সৈনিকদের স্মরণে এই বিশাল শোক সমাবেশ ও জানাজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকেই তেহরানের রাস্তাগুলোতে মানুষের ঢল নামে। হাতে জাতীয় পতাকা এবং নিহত নেতাদের ছবি নিয়ে সাধারণ মানুষ রেভ্যুলেশন স্কয়ারে জড়ো হতে থাকেন। বিশেষ করে আলী লারিজানি এবং গোলামরেজা সোলায়মানির কফিন যখন সভাস্থলে আনা হয়, তখন উপস্থিত জনতার গগনবিদারী স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

উপস্থিত জনতা লারিজানি ও সোলায়মানির প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ইরানের নীতি-নির্ধারণী ও সামরিক নেতৃত্বে থাকা এই ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিপ্লবের আদর্শে অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।
জানাজা অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইরানের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় নেতারা বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের এই শাহাদাত ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না, বরং এটি প্রতিরোধের দেয়ালকে আরও শক্তিশালী করবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও সেখানে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশ শেষে শোক মিছিলটি তেহরানের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। লারিজানি ও খতিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হারিয়ে ইরান যখন এক কঠিন সময় পার করছে, তখন এই বিশাল জনসমুদ্র তেহরান প্রশাসনের প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।







