সাবেক মার্কিন কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (NCTC) প্রধান জো কেন্টকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গোপন তথ্য ফাঁসের’ অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, জো কেন্ট পদত্যাগ করার কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস আগে থেকেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।
মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে জো কেন্ট তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কোনো আসন্ন হুমকি’ নয়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি এবং যুদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসলে কার নিয়ন্ত্রণে থাকে—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
জো কেন্টের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সিদ্ধান্তগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার নেপথ্যে ইসরায়েলি চাপ কাজ করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে? যুদ্ধ বা শান্তিকালীন সিদ্ধান্তগুলো কারা নিচ্ছে?”
এদিকে, প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লি কার্কের মৃত্যু নিয়ে জো কেন্ট বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর কিছুদিন আগে চার্লি কার্ক তাঁকে বলেছিলেন, “জো, আমাদের ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়ানো থেকে থামাও।” জো কেন্টের দাবি, চার্লি কার্ককে হঠাৎ করে ‘প্রকাশ্যে হত্যা’ করা হয়েছে, অথচ এই বিষয়ে কাউকে কোনো প্রশ্ন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
জো কেন্ট আরও অভিযোগ করেন যে, চার্লি কার্কের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত করতে গিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে। চার্লি কার্ক মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করছিলেন। এই কারণে তিনি অনেক ‘ইসরায়েলপন্থী দাতাদের’ কাছ থেকে তীব্র চাপের মুখে ছিলেন বলেও জানান জো কেন্ট।
বর্তমানে জো কেন্টের বিরুদ্ধে চলমান এফবিআই তদন্ত এবং চার্লি কার্কের রহস্যজনক মৃত্যু মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন তদন্ত মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হলো এবং পর্দার আড়ালে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা নিয়ে জনমনে অনেক উত্তরহীন প্রশ্ন রয়ে গেছে।







