ইরানের তৈরি বিখ্যাত ‘শাহেদ’ ড্রোনকে হুবহু নকল করে বানানো ‘লুকাস’ (LUCAS) ড্রোনের ব্যাপক উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এই ড্রোনটি দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন এটিকে আরও উন্নত করে বড় পরিসরে তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই ‘লুকাস’ ড্রোনটি মূলত ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের একটি মার্কিন সংস্করণ। গত বছর মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি শাহেদ ড্রোন হাতে পায় এবং সেটি ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে হুবহু নকল করে এই নতুন ড্রোনটি তৈরি করে। অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রেওয়ার্কস (SpektreWorks) এটি তৈরির প্রধান কারিগর।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, একটি প্রথাগত ক্রুজ মিসাইলের দাম যেখানে কয়েক মিলিয়ন ডলার, সেখানে একটি ‘লুকাস’ ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। কম খরচে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করাই যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ‘অ্যাফোর্ডেবল মাস’ (Affordable Mass) কৌশলের মূল লক্ষ্য।
ইরানি শাহেদের তুলনায় মার্কিন এই ড্রোনটি আকারে কিছুটা ছোট হলেও এতে রয়েছে অত্যাধুনিক স্টারলিংক (Starlink) স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। এর ফলে জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মধ্যেও এটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া এটি কেবল আত্মঘাতী হামলা নয়, বরং গোয়েন্দা নজরদারির কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে প্রথমবারের মতো এই ড্রোনটির সফল ব্যবহার করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কয়েক হাজার ‘লুকাস’ ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে পেন্টাগন, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।







