ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর চার বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ প্রতিবেশীর রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগমুহূর্তে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু মরিয়ম আক্তার ওই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা থেকে মরিয়মকে খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। স্বজনরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করার পর ইফতারের ঠিক আগে এক প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে তার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটির গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিতেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোর শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহটি চুলার ভেতর লুকিয়ে রাখে এবং সেই চেইন আঠারবাড়ি বাজারের একটি দোকানে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত কিশোরটি নেশাগ্রস্ত এবং নেশার টাকা জোগাড় করতেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই কিশোর এবং তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, রুপার চেইনের লোভে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এই বিষয়ে বিস্তারিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







