ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছেন। আশানুরূপ ফল না আসায় এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় ট্রাম্প এখন এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।
পার্সির মতে, ট্রাম্প নিজেই উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে যুদ্ধটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ কোনো সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। উত্তেজনার পারদ আরও চড়ানোর মতো বিকল্পগুলো এখন ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সমস্যাসংকুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ইরানের ওপর বড় কোনো আঘাত হানলে তার পাল্টা চড়া মাশুল যুক্তরাষ্ট্রকেও দিতে হবে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান ইতোমধ্যে তাদের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছে। তারা এমনভাবে হামলা চালানোর সাহস ও সামর্থ্য দেখিয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়লে মার্কিন অর্থনীতিও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিশাল অর্থনৈতিক ঝুঁকি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প কিছুটা চাপের মুখে রয়েছেন বলে মনে করেন ত্রিতা পার্সি। সাধারণ জনগণ এই যুদ্ধের ঘোর বিরোধী হলেও ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী বা ‘বেস’ এতদিন এই অভিযানে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছিল। তবে যুদ্ধের বর্তমান অনিশ্চিত গতিপ্রকৃতি দেখে এখন সেই কট্টর সমর্থকদের মধ্যেও অস্থিরতা ও স্নায়বিক চাপ তৈরি হতে শুরু করেছে।
সামগ্রিক এই সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন একটি কার্যকর ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে সসম্মানে বেরিয়ে আসার নিরাপদ উপায় খুঁজছেন। পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটানো ছাড়া ট্রাম্পের সামনে আর কোনো সহজ বিকল্প নেই বলে পার্সি মন্তব্য করেছেন।







