শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক রবার্ট পাপে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি অক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তিনি চলমান সংকটে ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিমত্তা ও কৌশলী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
রবার্ট পাপে তাঁর পর্যবেক্ষণে লিখেছেন, ইরান এখন যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরের নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে চলে এসেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইরানের প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এই অধ্যাপক জানান, ওয়াশিংটন এই জোটকে যতটা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তার চেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে এটি ইরানের পাল্টা আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য এখন নাটকীয়ভাবে ইরানের দিকে হেলে পড়েছে।
ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরান-বিরোধী আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। আমেরিকার জোরালো হুমকি ও তৎপরতা সত্ত্বেও বিশ্বের কোনো দেশই এখন পর্যন্ত এই জোটে সরাসরি শরিক হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
অধ্যাপক পাপে মনে করেন, বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্রই বর্তমান এই সংঘাতকে একান্তই ‘আমেরিকার যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করছে। ফলে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারা এই বিপজ্জনক সামরিক জোটে না জড়ানোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।







