চুল সাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকের চিন্তার শেষ থাকে না। এই সাদা চুল কালো করতে অনেকেই কলব বা কালো খেযাব ব্যবহার করেন। তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অল্প বয়সে চুল সাদা হয়ে গেলে তা কালো করার অনুমতি রয়েছে। কারণ অল্প বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি বার্ধক্য লুকিয়ে কাউকে ধোঁকা দেওয়ার পর্যায়ে পড়ে না।
তবে অল্প বয়সীরা কালো খেযাব ব্যবহারের সুযোগ পেলেও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মটি ভিন্ন। যাদের চুল ও দাড়ি পাকার বয়স হয়েছে, তাদের জন্য কালো খেযাব ব্যবহার করা নিহয়ত অনুচিত। এর পরিবর্তে তারা মেহেদি ব্যবহার করতে পারেন। নবীজি (সা.) সাদা চুল-দাড়িকে খেযাব দিয়ে বদলে ফেলার নির্দেশ দিলেও কালো রঙ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
মক্কা বিজয়ের সময় হযরত আবু কুহাফা (রা.) যখন ধবধবে সাদা দাড়ি নিয়ে নবীজি (সা.)-এর সামনে উপস্থিত হলেন, তখন তাকে এই শুভ্রতা বদলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানেও শর্ত ছিল কালো রঙ এড়িয়ে চলার। অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) সাদা চুল পরিবর্তনের জন্য মেহেদিকে সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরকালীন স্বার্থের কথা বিবেচনা করলে মুমিনের জন্য বার্ধক্যে কালো খেযাব ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাদিস অনুযায়ী, শেষ জামানায় একদল লোক চুলে কালো রঙ ব্যবহার করবে, যারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। তাই নিজের আমলনামা উজ্জ্বল রাখতে এবং জান্নাতের পথ সুগম করতে এই অভ্যাস বর্জন করা জরুরি।
অবশ্য বিশেষ পরিস্থিতিতে কালো খেযাব ব্যবহারের ব্যতিক্রমী অনুমতিও রয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে ভীত-সন্ত্রস্ত করতে এবং নিজেকে তরুণ ও শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল হিসেবে সাহাবায়ে কেরাম কালো খেযাব ব্যবহার করতেন। ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন কিতাবে যুদ্ধক্ষেত্রে এই রঙের ব্যবহারকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ না বুঝে হাত-পা মেহেদির রঙে রঙিন করেন কিংবা বয়স্ক হয়েও কালো খেযাব ব্যবহার করেন। এটি এক অর্থে শরিয়তের নির্দেশের লঙ্ঘন। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো নিজের পরকালীন ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আল্লাহর আদেশ মেনে সঠিক পদ্ধতিতে রূপচর্চা করা। এই ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো মেনে চলা আমাদের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।







