কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলোতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্যারিসভিত্তিক সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্বালানি বিশ্লেষক অ্যান-সোফি করবো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ধারণা করছেন, রাস লাফান স্থাপনাটি মেরামত করে পুনরায় সচল করতে কয়েক মাস থেকে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
অ্যান-সোফি উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিপোর্ট এলএনজি এবং নরওয়ের স্নোহভিট এলএনজি প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যা মেরামত করতে আট মাস থেকে দেড় বছর সময় লেগেছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ২০২৬ সালেও রাস লাফান পুরোপুরি চালু নাও হতে পারে, যা বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহে বড় ধস নামাবে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের ওপর, কারণ এই দেশগুলো এলএনজি আমদানির জন্য ব্যাপকভাবে কাতারের ওপর নির্ভরশীল। তথ্যমতে, বাংলাদেশ তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ এবং পাকিস্তান প্রায় ৯৯ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে। অন্যদিকে ভারতের চাহিদার ৪০ শতাংশেরও বেশি কাতার থেকে আসে।
রাস লাফান হলো কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মূল কেন্দ্র। ফলে এই স্থাপনায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া মানেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগা। কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুতেই সেখানে উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল, তবে সাম্প্রতিক হামলার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বাংলাদেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের লোডশেডিং এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু পরবর্তী যে অস্থিরতা ও সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা সামাল দিতে দেশগুলোকে এখন থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
