ঈদের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের কৃষি ও শিল্পখাতসহ অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া শ্রমিক সংকট রেমিটেন্স প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে তিক্ততা বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করাঅ
র্থনীতির চাকা সচল রাখা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা
গরমের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থিতিশীল রাখা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ইত্যাদি বিষয়ও সরকারের চ্যালেঞ্জ বাড়াবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এপ্রিল-মে মাসে গরমের সময় বিদ্যুৎ ও কৃষি কাজে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বর্তমানে জ্বালানি খরচ অনেক বেশি এবং রাজস্ব আয়েও ঘাটতি রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ।”
সরকার ইতিমধ্যেইবিকল্প জ্বালানি উৎস, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় ধৈর্য্য এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের মাধ্যমে টিকে থাকা জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনে দলীয় নিয়োগগুলো জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সংবিধান সংস্কার ও বিরোধী দলের দাবি-আন্দোলনও সরকারের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।”
নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন, বাজেট বরাদ্দ, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড সম্প্রসারণ, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—এসবই নতুন সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
